IPC ধারা 500(1860) কি? সহজ ভাষায় জেনে নিন।






 Section (IPC) -500


   মানহানি বলতে কী বোঝায়?


         একজন মানুষের নিজের মান-সম্মান, সুনাম বা খ্যাতি হল তার সম্পদ।অন্যান্য যে কোন সম্পদের মতই মান সম্মান, সুনাম বা খ্যাতি হল একটি অতি মূল্যবান সম্পদ। প্রত্যেক মানুষের মান-সম্মান, খ্যাতি সুরক্ষিত রাখার অধিকার রয়েছে।যদি কেউ কোন মিথ্যা বিবৃতি বা শব্দ দ্বারা  অথবা ইশারা বা ছবি দ্বারা কোন ব্যক্তির সুনামের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিটির সম্পর্কে নিন্দা করে বা নিন্দা 

 প্রকাশ করে অথবা এই রূপ নিন্দা  দ্বারা ব্যক্তিটির সুনামের ক্ষতি হবে জেনেও এইরূপ কাজ করে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তিটির মানহানি করেছে বলে ধরা হবে। মানহানিকে দেওয়ানী বা ফৌজদারী উভয়ক্ষেত্রেই অপরাধ বা অন্যায় বলে গণ্য করা হয়েছে।


   মানহানির অপরিহার্য শর্ত গুলি কি কি?


*  যেকোনো বিবৃতি বা শব্দ মিথ্যা বা অপমান কর বা মানহানি কর হতে হবে। 


বিবৃতি বা শব্দগুলি অবশ্যই বাদীকে উদ্দেশ্য করে বা উল্লেখ করে বলতে হবে।


* বিবৃতি বা শব্দগুলি অবশ্যই প্রকাশিত হতে হবে।


কোন বিবৃতি বা শব্দ বা শব্দাবলি মিথ্যা ও অপমানকর বা মানহানি কর হতে হবে


 মানহানি ও এর প্রতিকার: 


       পৃথিবীর সব মানুষের অবস্থান ভেদে মান-সম্মান রয়েছে। প্রতিটি রাষ্ট্রই মানুষের মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এক্ষেত্রে আমাদের দেশ ও ব্যতিক্রম নয়। এ বিষয়ে আমাদের সংবিধানে সুস্পষ্ট রূপে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্র মানুষের মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করবে।


  একজন ব্যক্তির সম্মানের প্রতি অসম্মান করা হলে বা সম্মান বিষয়ে হানিকর কিছু বলা হলে সেটিকে সাধারণ অর্থে মানহানি বলা হয়; তবে আইনের ভাষায় মানহানি ভিন্নতর সংজ্ঞা রয়েছে। একজন ব্যক্তির মান সম্মান তার অধিকার। এ অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।


  এ অধিকারের লংঘন বা হানি ঘটলে একজন ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে তা সংরক্ষণে সচেষ্ট হয়।


 আমাদের দেশে একজন ব্যক্তির সম্মান অপর ব্যক্তি কর্তৃক  হানি ঘটলে তিনি ফৌজদারী ও দেওয়ানি উভয় আদালতে এর প্রতিবিধান চেয়ে মামলা করতে পারেন। দেশের দন্ডবিধির আইনে 'মানহানিকে' অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, এর লঙ্ঘন বা হানির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান করা হয়েছে।


    একজন ব্যক্তির মানহানিকর  উক্তি দ্বারা অপর যে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় একমাত্র তিনি প্রতিকার চেয়ে মানহানিকর উক্তির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা রুজু করতে পারে।


    মানহানির প্রতিকার একটি দেওয়ানি প্রতিকার হতে পারে, যেখানে অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বা ফৌজদারি শাস্তি যেখানে অভিযুক্তকে দু'বছর পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। মানহানির অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায়ের করা যেতে পারে যিনি পুলিশ অভিসারদের তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেবেন এবং তারপর ফৌজদারী বিচার শুরু হবে।

 দেওয়ানী মামলার জন্য অভিযোগকারীকে অবশ্যই সিপিসি ধারা 19 এর অধীনে দেওয়ানী আদালতে অভিযোগ দাখিল করতে হবে।



 মানহানির আইনের উদ্দেশ্য: 


        মানহানির আইনের পিছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ,সুনামের অধিকার রক্ষা করা। যদি কেউ অন্য ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা এবং অসম্মানজনক বিবৃতি দেয় যা সেই ব্যক্তির মানহানি করতে পারে, তবে যিনি বিবৃতি দিয়েছেন তাকে মানহানির জন্য দোষী করা যেতে পারে।  মানহানির আইন দুটি মৌলিক অধিকারের সংস্পর্শে কল্পনা করে যা বাক্য ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং খ্যাতির অধিকার



এই বিষয়ে আরও তথ্য পেতে বা আরো জানতে,

 যোগাযোগ করুন - 8777751001

OUR FACEBOOK CHANEL - CLICK ON THE FACEBOOK CHANEL LINK

 
OUR INSTAGRAM CHANEL - CLICK ON THE INSTAGRAM PAGE LINK
 

OUR WEBSITE PAGE LINK -  CLICK ON THE WEBSITE PAGE LINK


Comments

Popular posts from this blog

ক্রেতা সুরক্ষা আইন কী? সহজ ভাষায় জেনে নিন।

ধারা ৪৫৭ এর বিবরণ

IPC ধারা 500 কি? সহজ ভাষায় জেনে নিন।