ধারা 463 জালিয়াতির কি শাস্তি হতে পারে তা বিস্তারিত জানবো।

 





ধারা :463  জালিয়াতি 

ধারা ৪৬ 

কোনো ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার জন্য বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে  বা কোনো ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোনো ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোনো প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোনো মিথ্যা দলিল বা নথি কিংবা দলিলের অংশ বিশেষ তৈরী করে, তবে সেই ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে ধরা হবে ধারা এর অধীনে। 

উদাহরণ 

১)A,B কে দিয়ে 'C' এর প্রতি 10,000 টাকার জন্য একটি লেটার অব ক্রেডিট লিখে নিয়ে,পরে C

কে ঠকানোর উদ্দেশ্যে A ওই Amount -এর সাথে একটি শূন্য যোগ করে দশ হাজারের জায়গায় 

এক লাখ করে নেয়। এটা এই অভিসন্ধিতে A এটা করে যে, C বিশ্বাস করবে যে, B এরূপ  লিখেছে। এক্ষেত্রে A জালিয়াতি করেছে বলে গণ্য হবে।

2) A তার প্রতিনিধি B কে তার স্বাক্ষরিত একটি চেক দেয় এবং বলে যে, বিভিন্ন খরচের জন্যে 10000 ওই চেকে লিখে টাকা যেন ব্যাঙ্ক থেকে ভাঙিয়ে নেয়। B প্রতারণামূলকভাবে 20,০০০ টাকা লিখে চেকটি ভাঙিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে B জালিয়াতি করেছে। 

ব্রিটিশ আমলে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এ জালিয়াতিকে একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। 

 দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। মোটামুটি পাঁচ ধরণের কাজকে জালিয়াতি হিসেবে আইনানুনভাবে আমরা ধরতে পারে। 

প্রথমত:-কোনো জনসাধারণের বা কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধন করতে। (যেমন- আপনার সই নকল করে আপনার চেক বই দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে ফেললে,সেটি আপনার ক্ষতিসাধন হচ্ছে)। 

দ্বিতীয়ত :- কোনো দাবি অধিকার সমর্থন করতে (যেমন- একটি স্ট্যাম্পে আপনার কাছ থেকে কোনো দাবি আদায় পূর্বক ইচ্ছেমতো কিছু লিখে সেখানে আপনার নাম , ঠিকানা ব্যবহার এবং আপনার স্বাক্ষর নকল করলে, যে সম্বন্ধে আপনি অবগত নন এবং যা আপনার স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। তৃতীয় :- কোনো ব্যক্তিকে কোনো সম্পত্তি পরিত্যাগ করতে। (যেমন- জাল দলিল এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। জাল দলিল প্রস্তুতের মাধ্যমে আপনার সম্পত্তির মালিকানা আপনার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া)। 

চতুর্থত :- কোন লোককে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করতে। (যেমন- মিথ্যা কোনো  চুক্তি আপনার নামে করে আপনার হয়ে তৈরী করা হলে এবং সেটি আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলে। যেমন - মিথ্যা বায়না দলিল করে আপনাকে আপনার জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হলো বা আপনি টাকা ধার নিয়েছেন, এমন ডকুমেন্ট তৈরী করে আপনাকে অন্যায় ভাবে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা)।

পঞ্চমত:- প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে বা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে ,(যেমন- যেকোনো ধরণের প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে যে কোনো ধরণের ডকুমেন্টস তৈরী করা)। 

              উপরের যেকোনো একটি উদ্দেশ্যে কোনো মিথ্যা দলিল বা দলিলের কোনো অংশ প্রস্তুত করাকে জালিয়াতি বলা হয়। 

এখানে জালিয়াতি করার জন্যে কোনো দলিল বা দলিলের একটি অংশ ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যা দলিল প্রস্তুত করতে হবে। 

জালিয়াতির শাস্তি কি ?

জালিয়াতির শাস্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের। 

জালিয়াতির শাস্তি হচ্ছে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে । 

একইভাবে,জালদলিল জেনেও আসল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও একই শাস্তি হবে। 

কিন্তু জালিয়াতি যদি করা হয় আদালতের নথিপত্র বা সরকারি রেজিস্টারে,সেই ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে      সাত বছর পর্যন্ত যে কোনো বর্ণনার কারাদন্ড+ জরিমানা। 

উদাহরণ- অনেক সময় দেখা যায়,আদালতের সিলমোহর নকল করে জালিয়াতি করা হয়। 

এছাড়া, মূল্যবান জামানত ,উইল প্রভিতিতে জাল করা হলে সেক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর পর্যন্ত যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ড এবং জরিমানা। 

প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি করা হলে সেক্ষেত্রে সাতবছরের কারাদণ্ড হতে পারে  এবং জরিমানাও। 

যোগাযোগ করুন - 8777751001

OUR FACEBOOK CHANEL - CLICK ON THE FACEBOOK CHANEL LINK

 
OUR INSTAGRAM CHANEL - CLICK ON THE INSTAGRAM PAGE LINK 
 

OUR WEBSITE PAGE LINK -  CLICK ON THE WEBSITE PAGE LINK

 

Comments

Popular posts from this blog

ক্রেতা সুরক্ষা আইন কী? সহজ ভাষায় জেনে নিন।

ধারা ৪৫৭ এর বিবরণ

IPC ধারা 500 কি? সহজ ভাষায় জেনে নিন।